সর্বশেষ আপডেট : ৩ ঘন্টা আগে
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দ | ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

গ্যাসের ঘাটতিতে বাড়ছে বিদ্যুৎ ও শিল্প সংকট

ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::

মহেশখালীর একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ থাকায় পাঁচ দিনে জাতীয় গ্রিডে আমদানি করা গ্যাসের সরবরাহ প্রায় অর্ধেকে নেমেছে; মোট গ্যাস সরবরাহ কমেছে দৈনিক প্রায় ৪৯ কোটি ঘনফুট।

এই ঘাটতির ধাক্কা পড়েছে বিদ্যুৎ খাতে। বিদ্যুৎকেন্দ্রে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ কমেছে প্রায় ২৩ কোটি ঘনফুট, আর গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে ২৫ শতাংশ।

গ্যাসের ঘাটতি সামাল দিতে কয়লা ও ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্র থেকে উৎপাদন বাড়ানো হলেও চাহিদার পুরোটা মেটানো যাচ্ছে না। তাতে ২৫ জুলাই রাত ১১টায় লোডশেডিং সর্বোচ্চ ৯৬২ মেগাওয়াটে ওঠে।

পেট্রোবাংলার দৈনিক গ্যাস উৎপাদন ও বিতরণ প্রতিবেদন এবং পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির জাতীয় লোড ডিসপ্যাচ সেন্টারের দৈনিক পরিচালন প্রতিবেদন বিশ্লেষণে এই চিত্র পাওয়া গেছে।

গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিদ্যুতের পাশাপাশি বাসাবাড়ি, শিল্পকারখানা ও সিএনজি স্টেশনেও সংকট তীব্র হয়েছে।

রাজধানীর অনেক এলাকায় দিনের বেশির ভাগ সময় চুলা জ্বলছে না। বিদ্যুচ্চালিত চুলায় রান্না করতে গিয়ে বাড়তি বিদ্যুৎ বিলের চাপে পড়ছে গ্রাহক।

এলএনজি সরবরাহ কমে অর্ধেক

দেশে বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। এর বিপরীতে দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি করা এলএনজি মিলিয়ে সাধারণ সময়ে প্রায় ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা হয়।

এর মধ্যে দেশীয় উৎপাদন দৈনিক প্রায় ১৬০ কোটি থেকে ১৬৫ কোটি ঘনফুট এবং আমদানি করা এলএনজি থেকে ১০০ কোটি থেকে ১১০ কোটি ঘনফুট আসে।

পেট্রোবাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০ জুলাই সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় এলএনজির সরবরাহ ছিল ৯৯ কোটি ৩৫ লাখ ঘনফুট।

২৫ জুলাই সকাল ৮টা থেকে ২৬ জুলাই সকাল ৮টা পর্যন্ত তা কমে ৫০ কোটি ১১ লাখ ঘনফুটে নেমে আসে।

অর্থাৎ পাঁচ দিনের ব্যবধানে জাতীয় গ্রিডে আমদানি করা গ্যাসের দৈনিক সরবরাহ কমেছে ৪৯ কোটি ২৪ লাখ ঘনফুট, যা প্রায় ৫০ শতাংশ।

এই সময়ে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদনে বড় পরিবর্তন দেখা যায়নি। দেশীয় উৎস থেকে দৈনিক প্রায় ১৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়া গেছে।

কিন্তু এলএনজি কমে যাওয়ায় দেশীয় গ্যাস ও আমদানি করা এলএনজি মিলিয়ে মোট সরবরাহ ২৬৪ কোটি ১ লাখ ঘনফুট থেকে কমে ২১৫ কোটি ১৭ লাখ ঘনফুট হয়েছে।

সরকারি হিসাবে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। সে হিসাবে সর্বশেষ সরবরাহের সঙ্গে চাহিদার ব্যবধান দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৬৫ কোটি ঘনফুট।

সমুদ্রপথে জাহাজে আনা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস ভাসমান টার্মিনালে গ্রহণ করে আবার গ্যাসে রূপান্তর করা হয়। এরপর পাইপলাইনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে পাঠানো হয়।

মহেশখালীতে এ ধরনের দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। কারিগরি ত্রুটির কারণে এর একটির কার্যক্রম বন্ধ থাকায় তৈরি হয়েছে সংকট।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন, করিগরি জটিলতায় পড়া টার্মিনাল থেকে আগামী সপ্তাহে আংশিক গ্যাস সরবরাহ শুরু হতে পারে।

প্রথম ধাপে দৈনিক ২৮ থেকে ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হতে পারে, আর পূর্ণ সক্ষমতায় (১০০-১১০ কোটি ঘনফুট) ফিরতে লাগতে পারে আরও এক সপ্তাহ।

বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস কমেছে ২৩ কোটি ঘনফুট

পাওয়ার গ্রিডের পরিচালন প্রতিবেদন অনুযায়ী, টার্মিনালে ত্রুটি দেখা দেওয়ার আগের দিন ২০ জুলাই বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৯২ কোটি ৬৮ লাখ ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হয়েছিল। ২৫ জুলাই তা নেমে আসে ৬৯ কোটি ৮৯ লাখ ঘনফুটে।

পাঁচ দিনের ব্যবধানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য গ্যাস সরবরাহ কমেছে ২২ কোটি ৭৯ লাখ ঘনফুট বা ২৪ দশমিক ৬ শতাংশ।

এর সঙ্গে গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর দৈনিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ১২ কোটি ৫৫ লাখ ৬৮ হাজার ইউনিট থেকে কমে ৯ কোটি ৩৯ লাখ ৮৪ হাজার ইউনিটে নেমেছে।

অর্থাৎ পাঁচ দিনে গ্যাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে প্রায় ৩ কোটি ১৬ লাখ ইউনিট বা ২৫ দশমিক ২ শতাংশ।

মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের অংশও ২০ জুলাইয়ের ৩৬ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে ২৫ জুলাই ২৭ দশমিক ৯ শতাংশে নেমেছে।

গ্যাস সরবরাহ কমার ধারাটি ২১ জুলাই থেকেই স্পষ্ট হয়। সেদিন বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ ছিল ৮৫ কোটি ৮৪ লাখ ঘনফুট। ২২ জুলাই তা কমে ৭৫ কোটি ১১ লাখ, ২৩ জুলাই ৭১ কোটি ১৪ লাখ এবং ২৪ জুলাই ৬৮ কোটি ৯২ লাখ ঘনফুটে নামে।

২৫ জুলাই সরবরাহ সামান্য বাড়লেও তা টার্মিনালে ত্রুটি দেখা দেওয়ার আগের তুলনায় প্রায় ২৩ কোটি ঘনফুট কম ছিল।

সর্বোচ্চ লোডশেডিং ৯৬২ মেগাওয়াট

২০ জুলাই সন্ধ্যার সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৫১১ মেগাওয়াট। উৎপাদন হয়েছিল ১৫ হাজার ৩৩২ মেগাওয়াট।

২৫ জুলাই সন্ধ্যার চাহিদা বেড়ে ১৬ হাজার ৬৯৩ মেগাওয়াটে ওঠে। উৎপাদন হয় ১৫ হাজার ৭৮৫ মেগাওয়াট।

পাঁচ দিনের ব্যবধানে সন্ধ্যার চাহিদা বেড়েছে প্রায় ১ হাজার ১৮২ মেগাওয়াট। উৎপাদন বেড়েছে ৪৫৩ মেগাওয়াট। ফলে চাহিদা ও উৎপাদনের ব্যবধান ১৭৯ মেগাওয়াট থেকে বেড়ে ৯০৮ মেগাওয়াটে পৌঁছায়।

পাওয়ার গ্রিডের ঘণ্টাভিত্তিক হিসাবে, ২০ জুলাই সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল ২৫৩ মেগাওয়াট। ২৫ জুলাই তা প্রায় চার গুণ হয়।

সেদিন রাত ৮টায় লোডশেডিং ছিল ৮৬৯ মেগাওয়াট। রাত ১০টায় তা ৯৫৮ মেগাওয়াট এবং সাড়ে ১০টায় ৯৬০ মেগাওয়াটে ওঠে।

রাত ১১টায় সর্বোচ্চ ৯৬২ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়। তখন বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৩২৭ দশমিক ৭৪ মেগাওয়াট এবং উৎপাদন ছিল ১৫ হাজার ৩২২ দশমিক ৭৪ মেগাওয়াট।

রাত ৮টার অঞ্চলভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি লোডশেডিং ছিল ময়মনসিংহে, ৩৫৩ মেগাওয়াট। সিলেটে ২০৭ মেগাওয়াট, ঢাকায় ১৬১ মেগাওয়াট এবং খুলনায় ১০১ মেগাওয়াট লোডশেডিং ছিল।

তরল জ্বালানিতে বছরের সর্বোচ্চ উৎপাদন

পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, গ্যাসভিত্তিক উৎপাদন কমে যাওয়ার ঘাটতি সামাল দিতে তরল জ্বালানিভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে।

তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার এসব কেন্দ্র থেকে প্রায় ৩ হাজার ৬৯০ থেকে ৩ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়েছে, যা তার জানা মতে চলতি বছরের সর্বোচ্চ।

জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে এমন কয়লা ও গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোও উৎপাদনে রাখা হয়েছে। তারপরও চাহিদার পুরোটা মেটানো না যাওয়ায় কিছু লোডশেডিং করতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।

তবে জহুরুল ইসলামের আশা, সামনে পরিস্থিতি এর চেয়ে আর খারাপ হবে না এবং ধীরে ধীরে উন্নতি হবে বলে।

কয়লা ও তেলে উৎপাদন বাড়লেও ব্যয় বেশি

গ্যাসভিত্তিক উৎপাদন কমে যাওয়ায় কয়লা ও ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্র থেকে উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে।

২০ জুলাই কয়লা থেকে উৎপাদন হয়েছিল প্রায় ১২ কোটি ২৯ লাখ ইউনিট। ২৫ জুলাই তা বেড়ে ১৩ কোটি ৮৬ লাখ ইউনিটে ওঠে। পাঁচ দিনে কয়লাভিত্তিক উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ।

একই সময়ে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক উৎপাদন প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ ইউনিট থেকে বেড়ে ৩ কোটি ৮৭ লাখ ইউনিটে পৌঁছায়। এই খাতে উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৪৪ শতাংশ।

মোট উৎপাদনে কয়লার অংশ ৩৫ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪১ দশমিক ১ শতাংশ হয়েছে। ফার্নেস অয়েলের অংশ ৭ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে সাড়ে ১১ শতাংশ হয়েছে।

তবে বিদেশ থেকে বিদ্যুৎ আমদানি কমেছে। ২০ জুলাই আমদানি করা হয়েছিল প্রায় ৫ কোটি ৮৮ লাখ ইউনিট। ২৫ জুলাই তা নেমেছে প্রায় ৫ কোটি ৪৬ লাখ ইউনিটে।

এই সময়ে বিদ্যুতের গড় উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। পাওয়ার গ্রিডের হিসাবে, ২০ জুলাই প্রতি ইউনিটের গড় উৎপাদন ব্যয় ছিল প্রায় ৬ টাকা ৩১ পয়সা। ২৫ জুলাই তা বেড়ে প্রায় ৭ টাকা ৯ পয়সা হয়েছে।

পাঁচ দিনে প্রতি ইউনিট উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৭৮ পয়সা বা ১২ দশমিক ৪ শতাংশ। তবে ব্যয় বাড়ার কারণ প্রতিবেদনে আলাদাভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি।

গ্যাসের পাশাপাশি তরল জ্বালানিরও সংকট

লোডশেডিং বাড়ার একমাত্র কারণ গ্যাসের ঘাটতি নয়। তরল জ্বালানি সংকট, রক্ষণাবেক্ষণ ও যান্ত্রিক সমস্যার কারণেও অনেক কেন্দ্র বন্ধ বা সীমিত উৎপাদনে ছিল।

২৬ জুলাইয়ের জন্য পাওয়ার গ্রিডের উৎপাদন পূর্বাভাসে ২৫টি বিদ্যুৎকেন্দ্র বা ইউনিটের মন্তব্যে ‘গ্যাস সংকট’ লেখা হয়েছে।

তালিকায় ঘোড়াশালের কয়েকটি ইউনিট, হরিপুর, মেঘনাঘাট ৪৫০ মেগাওয়াট কেন্দ্র, সামিট মেঘনাঘাট, সিদ্ধিরগঞ্জের দুটি ১২০ মেগাওয়াট ইউনিট, ইউনিক মেঘনাঘাট, জেরা মেঘনাঘাট এবং আশুগঞ্জের কয়েকটি কেন্দ্র রয়েছে।

একই পূর্বাভাসে ৩৩টি কেন্দ্র বা ইউনিটের পাশে তরল জ্বালানি সংকটের কথা লেখা হয়েছে।

কয়েকটি কেন্দ্র রক্ষণাবেক্ষণ, যান্ত্রিক ত্রুটি, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া এবং অন্যান্য কারিগরি কারণেও বন্ধ থাকার তথ্য রয়েছে পূর্বাভাস প্রতিবেদনে।

তিতাসের বিতরণ কমেছে ২৭ কোটি ঘনফুট

গ্যাস সংকটের বড় প্রভাব পড়েছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসির আওতাধীন ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ এলাকায়।

২০ জুলাই সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় নন-গ্রিড বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ তিতাসের মোট গ্যাস বিতরণ ছিল ১৪৮ কোটি ১ লাখ ঘনফুট।

২৫ জুলাই সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় তা ১২০ কোটি ৯৪ লাখ ঘনফুটে নেমেছে।

পাঁচ দিনে তিতাসের দৈনিক গ্যাস বিতরণ কমেছে ২৭ কোটি ৭ লাখ ঘনফুট বা ১৮ শতাংশের বেশি।

তিতাস কর্মকর্তারা বলছেন, তাদের আওতাধীন এলাকায় দৈনিক প্রায় ২০০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু পেট্রোবাংলার হিসাবে, ২০ থেকে ২১ জুলাই সেখানে সরবরাহ হয়েছিল ১৪৮ কোটি ১ লাখ ঘনফুট।

সে হিসাবে তখন ঘাটতি ছিল প্রায় ৫২ কোটি ঘনফুট। এরপর সরবরাহ আরও কমতে থাকে। ২২ থেকে ২৩ জুলাই তা নেমে আসে ১১৮ কোটি ৯৮ লাখ ঘনফুটে; ফলে ঘাটতি বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৮১ কোটি ঘনফুটে।

পরে সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও ২৫ থেকে ২৬ জুলাই তা ছিল ১২০ কোটি ৯৪ লাখ ঘনফুট। তখনও চাহিদার তুলনায় প্রায় ৭৯ কোটি ঘনফুট গ্যাস কম ছিল।

পাঁচ দিনে তিতাসের মোট গ্যাস সরবরাহ কমেছে প্রায় ২৭ কোটি ঘনফুট। এর প্রায় অর্ধেক কমেছে বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরবরাহে। বাকি অর্ধেকের প্রভাব পড়েছে আবাসিক, শিল্প, সিএনজি, বাণিজ্যিক ও অন্যান্য গ্রাহকের ওপর।

এর প্রভাবে রাজধানীর অনেক এলাকায় দিনের বেলায় চুলা জ্বালানোর মতো চাপ থাকছে না। এর সঙ্গে পুরোনো ও ক্ষতিগ্রস্ত পাইপলাইনের ছিদ্র দিয়ে বৃষ্টির পানি ঢুকে কিছু এলাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।

‘মানুষ অবর্ণনীয় কষ্ট করছে’

ফেইসবুকের ‘আমরা মোহাম্মদপুরবাসী’ গ্রুপে ইশতিয়াক খান তানজিম নামে একজন লিখেছেন, শেখেরটেক, নবোদয় হাউজিংসহ মোহাম্মদপুরের অনেক এলাকায় চার দিন ধরে গ্যাস ছিল না।

জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি লিখেছেন, “এনাদের কাউকেই তো কোনো উচ্চবাচ্য করতে দেখলাম না, সরেজমিনে দেখা তো অনেক দূরের কথা।”

তানজিম লিখেছেন, “আমাদের পাশে কেউ নাই, হাজার হাজার মানুষ অবর্ণনীয় কষ্ট করছে। কেন ভাই আমাদের কি মানুষ মনে হয় না?”

একই গ্রুপে তানিয়া মাসুদ লিখেছেন, “গ‍্যাস পাই না বিলতো ঠিকই দিচ্ছি !!! বাসায় মেহমান আসলে লজ্জায় পরতে হয়। কবে ঠিক হবে এই গ‍্যাসের সমস্যা?”

উত্তরার বাসিন্দা আতিকা রোমা ফেইসবুকে লিখেছেন, দিনের বেশির ভাগ সময় গ্যাস না থাকায় তিনি ভোরে বা রাতে দুই থেকে তিন দিনের রান্না একসঙ্গে করে রাখছেন।

হাজারীবাগে চার দিন একেবারেই গ্যাস ছিল না জানিয়ে তিনি লিখেছেন, অর্ডারের কিছু খাবার উত্তরার বাসায় রান্না করে পাঠাতে হয়েছে।

বিদ্যুচ্চালিত কুকার ব্যবহারে বিদ্যুৎ বিল বাড়লেও নিয়মিত গ্যাসের বিল দিতে হচ্ছে, সে কথা তুলে ধরে তিনি লিখেছেন, “সমাধান চাই সমাধান। কোন আউল ফাউল আশ্বাস চাই না। সুষ্ঠু সমাধান চাই।”

গ্যাস সংকটে গৃহস্থালি, শিল্প ও সিএনজিখাতে ভোগান্তির কথা স্বীকার করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “এটা সরকারি প্রতিষ্ঠানের কোনো ত্রুটি নয়, একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কারিগরি সমস্যা। তারপরও জনগণের প্রত্যাশার জায়গা সরকার। তাই জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করতে আমাদের কোনো দ্বিধা নেই।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম
নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
মোবাইল: ০১৭১২ ৮৮৬ ৫০৩
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: